বই কিনুন। বই পড়ুন। বই উপহার দিন।
অনলাইনে সংগ্রহ করুন 👇
পি ন্টু ঘো ষ
বটগাছ
' সুদিন আসবে ' ভেবে প্রতিবার মাঠে
বেদনার বীজ ছড়ায় বাবা
কিন্তু প্রত্যেকবারই
সোনার ফসল আসে
বিষাদ বাষ্প আসে
সুদিন আসে না
বাবা আসলে বটগাছের মতো
দুঃখ সহ্য করে ঝুড়ি নামিয়েছে কেবল, নড়েনি এক পা-ও
___________
*(কবিতাটির প্রথম প্রকাশ 2019 সালে লালমাটি পত্রিকায়)
————
রোদ
মেয়েটির দু'গালে হাত রেখে ঠাকুমা বলছিল, তোর জন্যই এত মায়া, শাখায় শাখায় মুকুলে পল্লবে বিস্ফারণ, চাতকের কাতর প্রার্থনা, ঋতুতে বর্ষা-বসন্তের আগমন। তোর জন্যই পুরুষের বুক আজও পাষাণ, দূর্বার মতো নারীও কোমল। তোর জন্যই বেঁচে আছে কোমল গান্ধার ; রাঙা পলাশ ...
আগুন রঙা শাড়ি পরা মেয়েটা একমনে ঠাকুমার কথাগুলো শুনছিল, ভাবছিল ঠাকুমাও হয়তো কবিতা লেখে।
আমি জানি ঠাকুমা কবিতা লেখে না ; আমি জানি ঠাকুমা অসম্ভব সত্যি কথা বলে, জিরাফকে বলে জিরাফ, প্রজাপতিকে প্রজাপতি। আর এটাও জানি যে, ঠাকুমার দেওয়া ডাকনাম কখনও ভুল হতে পারে না।
আমরা সবাই এখন রোদের সাথে গল্প করছি। রোদ, মেয়েটির ডাকনাম।
__________________________________________
*(কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল 2018 সালে শব্দের মিছিল এ)
![]() |
| অনলাইনে সংগ্রহ করুন 》 Buy |
✍️রবীন বসু
কবি ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য-এর কবিতার বই “কুয়াশা কুয়াশা কথা” গতকাল যাদবপুর কফিহাউসে হাতে পেলাম। শোভন সুন্দর ঝকঝকে একটি কাব্যগ্রন্থ। নামকরণেই মুগ্ধ হয়েছি প্রথমে। তারপর রুচিশীল প্রচ্ছদ নজর কেড়েছে। “কুয়াশা কুয়াশা কথা” কবির এক ভাসমান বোধ ও জীবন দর্শনের কবিতাগুচ্ছ। আপাত সরল নিরাভরণ দেহের কবিতাগুলোর মধ্যে রয়েছে এক অনাবার্য টান ও বিস্ময়। সে বিস্ময় শুধু পাঠকের না, কবির নিজেরও বোধহয়।
“কিছু দেখেও দেখতে পাচ্ছি না
কিছু শুনেও শুনতে পাচ্ছি না
কিছু লিখেও লিখতে পারছি না।”
( পরমক্ষণিক )
আমরা এক অনিকেত শূন্যতায় ঝুলছি। সময় নির্মম ভাবে প্রতিশোধ নেয়, আর এটাই আধুনিক যুগ-যন্ত্রণা। কবি সেই যন্ত্রণার শিকার। সেই অবরুদ্ধ দিনের প্রতীকি ভাষা।
“যেন সূর্যের মধ্য আকাশ
যেন সব হারানো এক ভেকধারী ফকির
তাই অসফলের দরজায় কড়া নাড়ি।”
( অসফল আলো )
সে অর্থে এই যুগটাই অসফল। জীবন যেন না -পাওয়ার, স্বপ্নহীনতার এক খসে পড়া পালক। কবি কিন্তু যত্নে সেই পালক কুড়িয়ে বুক পকেটে রাখেন। কেননা, এটা তাঁর স্মৃতি। তাঁর বসবাস।
“ভাঙা চালের ভেতর দিয়ে আসা মায়া
যেন চাঁদের আলোর মতো স্নিগ্ধ।
সেখানেই বসবাস রাখি।”
( অসফল আলো )
কবি ইন্দ্রনীল তাঁর টুকরো টুকরো ক্ষণ, গভীর অনুভব আর নিজস্ব আর্তি বাঙ্ময় করেছেন শব্দের ম্যাজিক কুহকে। কবিতার শরীরে তাই সচেতন ভাবে না হলেও অপ্রত্যক্ষে তিনি পরাবাস্তবতাকে প্রশ্রয় দিয়েছেন। আর এতে কবিতায় একটা মায়া সৃষ্টি হয়। তার রেশ পাঠের পরেও থেকে যায়। আর এখানেই কবির সিদ্ধি।
“আবার এমন কুয়াশা আছে
যেখানে শুধুই ধ্বনিহীন প্রতিধ্বনি।
অর্ধেক জীবন পার করে এসে, সেই দৃষ্টিহীন
মূক ও বধির কুয়াশাটুকুই অবশিষ্ট পড়ে থাকে।”
( কুয়াশা কুয়াশা কথা )
আগেই বলেছি, কবির নিজস্ব এক দর্শন আছে। এ দর্শন দেখার না, উপলব্ধির। কবি তার অনুভব ও উপলব্ধিতে যে রাগিনী বাজিয়েছেন, সেখানে মুহূর্ত প্রতিভাত হয়েছে অনন্তে।
“দহনের ভেতর লুকিয়ে থাকে
অম্লান মেঘ, ঝরায় অবিরত।”
( অস্পষ্টতা )
✍️ রবীন বসু
____________________________________
কুয়াশা কুয়াশা কথা
ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য
সুতরাং প্রকাশনী
সঞ্জয় ঋষি
হাবড়া, উত্তর চব্বিশ পরগনা।
মূল্য - ১৫০/-
তা প স রা য়
জানালায় কেন যে পর্দা টাঙানো হয় জানালা জানে না
একটা বড় নৌকোর ভেতর একটা ছোট নৌকো পুরে
মানে যেভাবে একটা বাড়ির ভেতর ঘর বানিয়ে
আমাদের ভেসে থাকাথাকি ---- ক্রমে অশ্লীল হয়ে আসে সব
আর প্রতিটি গোপন আমরা গোপন করা শিখি, বাজারে যাবার আগে
পোশাক পাল্টাই, তুমি লক্ষ্য করো আমাদের বাইরের আমি
ভেতর আমিটি ক্রমাগত হেরে যায়, ঝুঁকে পড়ে
জানাজানি হবে না কখনো ঘরের ভেতরে
উপেক্ষারা কত কত পড়ে থাকে, জড়সড়
এভাবে বলা যেতে পারে, আমাদের তাকানোর ভেতর যেসব অভ্যাস ক্রিয়াশীল
ঠিক সেভাবেই দৃশ্যরা আসে, আমি নিশ্চিত বলে দিতে পারি
মৃতদেহগুলির চলাফেরা তুমি কখনও দেখ না, তুমি দেখতে জান না
সকাল হবার আগে দিনমণি কীভাবে কষ্ট পায়, তার আরো যে
ঘুম বাকি থাকে, আড়মোড়া ভাঙাটি্কে তুমি লাফাতে লাফাতে বলে দাও
সানরাইজ সানরাইজ
তার লাল লাল হাহাকার তোমাকে নন্দিত করে
তুমি পিক ফিফটিনের পাশে অন্য চূড়া খুঁজে যাও, নিজের পায়ের নীচে
পড়ে থাকে ব্যথাতুর অনন্ত খাদ
যেকথা বলছিলাম, শক্তি কি অকারণে হাঁকে, ‘প্রভু নষ্ট হয়ে যাই’! নষ্ট হই আজ
লী না রা য়
জীবনমুখী গান
বড্ড নিরেট, ইঁটের দেয়াল
দম হাঁসফাঁস মাঝ দুপুরে –
সেই নদীটার চোখ ইশারায়
হাতছানি দিকশূন্যপুরে ।
হাতড়ে খুঁজে টুকরো ছবি
শীতের দুপুর বারবেলায়,
এক সওয়ারি সঙ্গে তার-ই
নাছোড় জেদে পার ভাসায়।
তারপরে কী? প্রশ্ন জাগে
চোখের দেখা? নগ্ন ভান ?
বড্ড জ্বালা মায়ার দোহাই
মান ভাঙানি সোহাগ টান।
গল্প কী তবে অল্প এত ?
অসময়ে ভাঁটার টান?
মন কেমনের বৃত্ত পথে
জীবনমুখী নচির গান।
উ ত্ত ম চৌ ধু রী
বাতাসেরা
মাঝে মাঝে শীতঘুম নামে।
মাঝে মাঝে ভাটাদের টানে
জলের গভীরে ঢোকে বোধের কণারা।
আলোর চোখে দাঁড়িয়েছিল যারা
মাঝে মাঝে অন্ধকার টেনে
পিচকালো মূর্তি হয়ে যায়।
এসব কথায়
কারও কিছুই যায় আসে না।
শুধু বিকেলের দিকে হাঁটে
অভিজ্ঞ মনের বাতাসেরা।
অ মি ত চ ক্র ব র্তী
তুমি কেন ফুল মাড়াবে
তোমার জুতোতে ফুলফুল গন্ধ কেন
তুমি কি ফুল মাড়িয়েছ, হাওয়াতে ওড়ে এখন
আকন্দ ফুল, বিদেশী স্বপ্ন সাজে পোখরাজ রাঙা
পক্ষীরাজ। এখন তো রাধাচূড়ারও সময়,
সে কিশোরী মেয়ে, জোড়াবিনুনী রাইকমল,
গাছতলায় আগুন জ্বালাচ্ছে খুশির,
তুমি তাকে বরং গান শোনাও,
বের কর তোমার নাইটিঙ্গেল দোতারাটা।
যাযাবর গায়কপাখি তুমি, তোমার কেন থাকবে
আস্ফালনের ভাঁজ, মন কষাকষি দ্বন্দ্বভার, তুমি লিখবে
চকমকি ঘষা, চাতালে বা প্যারাসলে
চকখড়ি দিয়ে উপলকথা,
তুমি গাইবে ভ্রষ্ট আষাঢ়, নরম শালে সম্মোহনের
“শুনুন” শব্দ, পিছুডাকে, নীচুডাকে, নরম গলায়,
শরম গলায়, তুমি আঁকবে শ্বাসজমি ঘাস,
তুমি কেন ফুল মাড়াবে?
![]() |
| ঠিক কবিতা নয় |
![]() |
| অনলাইনে সংগ্রহ করুন 》Buy |
নাসির ওয়াদেন
দুপুর
প্রসাদ সিং
দেবার্ঘ সেন
অসীম মজুমদার
বিশ্বজিৎ রায়
গোবিন্দ মোদক
স্বপ্ন-মরীচিকা
দেবপ্রিয় হোড়
নতুন স্বাভাবিক
তীর্থঙ্কর সুমিত
আত্মকথন
তমাল চক্রবর্তী
অন্নদাতা কৃষক
কৃষক তুমি ফসল ফলাও
লাঙ্গল কাস্তে হাতে,
সকাল থেকে সন্ধ্যা তোমার
মাঠেই সময় কাটে।
কর্মঠ পরিশ্রমী উদয় অস্ত
জমির জন্য খাটে,
বিক্রি করে ফসলের যেন
ন্যায্য দাম আসে।
জোটে না তোমার দু মুঠো ভাত
খাওয়ার সময় পাতে,
ঋণের বোঝায় ডুবন্ত হয়ে
অভুক্ত পেট কাঁদে।
বিনিদ্র রাত ক্ষুধার্ত হয়ে
চিন্তার স্রোতে ভাসে,
আলাদিনের প্রদীপের ন্যায়
কেউ যে নেই পাশে।
অন্নদাতা ঈশ্বর তুমি
দায়িত্ব তোমার কাঁধে,
ফসল ফলাও বলেই তো সব
অভুক্ত পেট বাঁচে।
রোদ বৃষ্টি গরম ঠান্ডা উপেক্ষা করে
খাটছে যারা মাঠে,
খিদের জ্বালা মিটুক তাদের
বাঁচুক কৃষক আগে।
সম্পাদকীয় ✍
কবি-জীবন জন্মে
কবি-জীবন মৃতের
আমাদের কবি-জীবন শিমুলে-পলাশে
~পিন্টু মুকুল
সম্পাদক
ঠিক কবিতা নয়
র বী ন ব সু
অ র্ণ ব মি ত্র
স্নে হা শি স মু খো পা ধ্যা য়
শা ন্ত নু গু ড়ি য়া
শু ভ জি ৎ দা স
সৌ মে ন দে ব না থ
দী প ক মু খো পা ধ্যা য়
চ ন্দ ন পা ত্র
অ র বি ন্দ মা জী
সম্পাদকীয় ✍
এইতো ওড়ালাম ধুলি
এইবার
কেউ বলে বলুক পাগল
কেউ বলুক স্বেচ্ছাচারী...
~পিন্টু মুকুল
সম্পাদক
ঠিক কবিতা নয়
পরাবাস্তব জোনাকদল
দেবতা লাঙল ও কৃষক
বেহালা
ই ন্দ্রা ণী পা ল
শামুক
প্র সা দ সিং
শব্দবন্দি
অ ভি ষে ক ঘো ষ ।ফেলে আসা মেনুকার্ড
শু ভ জিৎ দা সএকজোড়া নদীর গল্প
বর্ষা প্রেমিক
পা ভে ল আ মা নজীবনের দরজায়
অ ন সূ য়া দ ত্ত